হলুদ-দুধের মিশ্রণ খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা

** হলুদ-দুধের মিশ্রণ **
~~~~~~~~~~~~~

 

** শীতকালে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । দুধে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, ডি, ক্যালসিয়াম , প্রোটিন ও ল্যাকটিক এসিড । হলুদে থাকে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান যেমন – প্রোটিন , খাদ্যআঁশ , নায়াসিন , ভিটামিন সি, ই, কে, পটাশিয়াম , ক্যালসিয়াম , কপার , ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক । তাই শীতে দুধের সাথে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা ।

#গলার যাবতীয় সমস্যা দূর করে ।

#সর্দি , কাশি ও জ্বরে খুব উপকারী ।

#লিভারকে শক্তিশালী করে ।

#ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে বার্ধক্য ঠেকায় ।

#মাইগ্রেনে খুব লাভদায়ক ।

** হলুদ বাংলাদেশ সহ পুরো ভারতবর্ষেই একটি পরিচিত মশলা । আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ঔষধি হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে । কাঁচা হলুদ হোক কিংবা গুঁড়ো হলুদ, দুটোরই আছে গুণ । দুধের সাথে অল্প হলুদের রস মিশিয়ে পান করলে শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্যই ভালো । দুধ এবং হলুদ – এই দুইয়ের মিশ্রণ আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন ও রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।

** প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে হলুদ-দুধ যেকোনো ব্যথা, যন্ত্রণার হাত থেকে আমাদের মুক্তি দেয় ।

** হলুদ-দুধ কফ ও গলার প্রদাহ দূর করার জন্য একটি উপকারী ঘরোয়া দাওয়াই । হলুদের অ্যান্টিসেপটিক ও এসট্রিজেন্ট উপাদান দুধের সাথে মিলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং শুষ্ক কফ দূর করে ।

** হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দুধের পুষ্টির সঙ্গে মিশে প্রাকৃতিক অ্যাসপেরিনের কাজ করে যা মাথাব্যথা রোধে বেশ কার্যকরী । পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথারোধে এই দুধ উপকারী ।

** হলুদে কারকিউমিনের উপস্থিতির জন্য এটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে এবং এর বৃদ্ধিও প্রতিরোধ করে । হলুদ-দুধ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় ।

** দিনে-রাতে অন্তত সাতঘন্টা ঘুমাতে কষ্ট হলে ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে একগ্লাস হলুদ-দুধ পান করলে চাপ কমবে । দুধে রয়েছে সেরোটোনিন ( মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থ ), মেলাটোনিন যেটা হলুদের বিভিন্ন পুষ্টিগুণের সঙ্গে মিশে চাপ দূর করে এবং ভালো ঘুমে সাহায্য করে ।

** হলুদে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লামেটরী উপাদান যা গাঁট বা গেরোর শক্তি বাড়ায় । এছাড়া ব্যথা দূর করে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর পেশীর নমনীয়তা বাড়ায়

** হলুদ-দুধ রক্ত পরিশোধিত ও পরিষ্কার করতে সাহায্য করে । এর পুষ্টি রক্ত সঞ্চালন ভালো করে । হলুদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের লিমপ্যাথিক পদ্ধতি ভালো রাখতে সাহায্য করে ।

** ঋতুস্রাবের সময় অনেক ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাতে বাঁধা তৈরী হয় । এটি একটি প্রচলিত সমস্যা
। নিয়মিত হলুদ-দুধ খেলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয় । এর মধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিসপ্যাসমোডিক উপাদান রয়েছে যা ঋতুস্রাবের ব্যথা দূর করে এবং রক্তপাতের বাঁধাকে দূর করে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে ।

তবে অধিকমাত্রায় হলুদ খাওয়া যাবে না লিভারের সমস্যা বেড়ে যায় । তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হলদ-দুধ পান করাই শ্রেয় ।

Leave a Reply